চলতি বছর বিশ্বব্যাপী জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (জেনএআই) প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়বে ৭৬ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির ফলে এ খাতে ব্যয় গত বছরের ৩৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে পৌঁছবে ৬৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে। কানেকটিকাটভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গার্টনার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়। সংস্থাটি বলছে, ব্যবসা থেকে শুরু করে ভোক্তা পণ্য, প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তিটি এখন অপরিহার্য হয়ে উঠছে। খবর টেকমনিটর।
জেনএআই এমন এক ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা ডাটা থেকে নতুন কনটেন্ট তৈরি ও বিশ্লেষণ করতে পারে, যেমন চ্যাটবট।
গার্টনারের এক বিশ্লেষক জানান, জেনারেটিভ এআই নিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষায় ব্যর্থতা ও বর্তমান ফলাফলে মানুষের সন্তুষ্টি না থাকায় এর সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা কমছে। অন্যদিকে এআই মডেল বিকাশে কোম্পানিগুলো প্রতি বছর হাজার কোটি ডলার খরচ করছে। এমন পরিস্থিতি আগামী দুই বছরেও থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালে কোম্পানিগুলো নিজেদের এআই প্রকল্পের তুলনায় বাজারজাত সমাধানকেই প্রাধান্য দেবে, কারণ সেগুলো দ্রুত ও নিশ্চিত ফল দেয়। এআই মডেলের উন্নতি হলেও প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য সফটওয়্যার কোম্পানির তৈরি জেনারেটিভ এআই ফিচার ব্যবহার করবে। কারণ তারা নতুন করে গবেষণা বা পরীক্ষা কমিয়ে দেবে।’
অর্থাৎ একটি কোম্পানি যদি চ্যাটবট বানাতে চায়, আগে তারা নিজেরাই প্রোগ্রামার দিয়ে চেষ্টা করত। এখন এসব প্রতিষ্ঠান গুগল বা মাইক্রোসফটের তৈরি চ্যাটবট কিনে নেবে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচবে, কাজও ভালো হবে।
গার্টনারের গবেষণা বলছে, জেনারেটিভ এআইভিত্তিক সেবা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ বাড়ছে। গত বছর খাতটিতে বিনিয়োগ ছিল ১ হাজার ৬০ কোটি ডলার, যা চলতি বছর বেড়ে দাঁড়াবে ২ হাজার ৭৮ কোটি ডলারে। অর্থাৎ এক বছরে ১৬২ শতাংশ বেশি বিনিয়োগ। একইভাবে এআই সফটওয়্যার খাতেও ব্যয় বাড়ছে। ২০২৪ সালে এ খাতে বিনিয়োগ ছিল ১ হাজার ৯২০ কোটি ডলার, এ বছর প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, জেনএআই আইটি খাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে, যেখানে হার্ডওয়্যার ইন্টিগ্রেশন (বিভিন্ন হার্ডওয়্যার উপাদানকে একত্র করা) একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সামনের দিনগুলোয় জেনএআই খাতে প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যয় হার্ডওয়্যারের দিকে যাবে, যেমন সার্ভার, স্মার্টফোন ও পিসি। এক হাজারের বেশি জেনএআই পণ্য ও সেবাদানকারী বিক্রেতার তথ্য বিশ্লেষণ করে গার্টনার এ পূর্বাভাস তৈরি করেছে।
এদিকে চলতি বছর শেষে বৈশ্বিক জেনারেটিভ এআইয়ের (জেনএআই) বাজার ১ হাজার ৭৪১ কোটি ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের এক প্রতিবেদনে। জেনএআইয়ের বেশির ভাগ বড় কোম্পানি উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত। এ বাজার থেকে প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি আয় করে অঞ্চলটি। সংস্থাটি বলছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপন শিল্পের ৩৭ শতাংশ কোম্পানি জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছে।
আজকের এআইকেন্দ্রিক সমাজে জেনএআইয়ের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। বেশির ভাগ শিল্প ও ব্যবসা এরই মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বা তাদের কাজের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। এছাড়া আগের বছরের তুলনায় ২০২৪ সালে ব্যবসায়িক খাতে জেনারেটিভ এআইতে ব্যয় বেড়েছে ৫০০ শতাংশ। এন্টারপ্রাইজ খাতে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি, গুগলের জেমিনিটি, অ্যানথ্রপিকের ক্লড এখনো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে।